বাংলাদেশে বর্তমানে অ্যান্ড্রয়েড চালিত ডিভাইসের চাহিদা বেশ ভালই । বাজারে স্মার্টফোনের অব্যাহত চাহিদার কারণে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাজার দখলের প্রতিযোগিতা প্রবল। তার মধ্যে দেশীয় ব্র্যান্ডের অর্থাৎ Symphony And Walton এর ফোনগুলো- ঈ বাংলাদেশের স্মার্ট ফে।ন বাজার করে রেখেছে। আমি গত ১ মাস ধরে Symphonyr W68 সেটটি ইউস করছি। তাই অনেকের অনুরোধ এ আমি এই সেটটির ১ টি বিস্তারিত রিভিউ দিতে যাচছি। রিভিউ তে কোন প্রকার ভুল থাকলে কমেন্ট করে জানাবেন।
এক নজরে Symphony W68
প্রসেসরঃ মিডিয়াটেক এমটি৬৫৭২টি (MT6572T) কর্টেক্স এ৭ ভিত্তিক ডুয়াল কোর প্রসেসর।
জিপিইউঃ মালি ৪০০ এমপি (Mali400 MP) ।
ডিসপ্লেঃ ৪ ইঞ্চি প্রশস্ত,রেজুলেশন ৪৮০*৮০০ (WVGA) ।
ক্যামেরাঃ প্রাইমারি কেমেরা ৫ মেগাপিক্সেল এবং ফ্রন্ট ০.৩ মেগাপিক্সেল।
স্টোরেজঃ অ্যাপ্লিকেশন ইন্সটলের জন্য ১.২৭ গিগাবাইট এবং অন্যান্য ডাটা স্টোরেজের জন্য রয়েছে মাত্র ৯২৫ মেগাবাইট ।
ওএসঃ অ্যান্ড্রয়েড ৪.২.২ জেলি বিন
অন্যান্যঃ থ্রিজি, ওয়াইফাই, ওয়াইফাই হটসপ্টস, ব্লুটুথ, জিপিএস, ১৫০০ mAhব্যাটারি, সেন্সর, মাইক্রো! ইউএসবি পোর্ট ইত্যাদি।
বিল্ড কোয়ালিটি ও ডিজাইন : ডিজাইনের দিক দিয়ে Symphony W68 Symphonyr অন্ন সেট গুলা থেকে একেবারেই ভিন্ন এবং স্টাইলিশ । সেটটি দেখতে কিছুটা HTC ONE X এর মত। সাদা ও কালো দুটি রং এই বের হওয়া এই ডিভাইসটির দৈর্ঘ্য ১২৩.৭ মিলিমিটার, প্রস্থ
৬৩.২ মিলিমিটার এবং পুরুত্ব ১০.৩ মিলিমিটার।


সিপিইউ ও জিপিইউ : Symphony W68 ডিভাইসটিতে দেয়া হয়েছে করটেক্স এ৭ভিত্তিক মিডিয়াটেক ১.৩ গিগাহার্জ এমটি৬৫৭২টি (MT6572T) ডুয়াল কোর প্রসেসর। ডিভাইস্টিতে ডুয়াল কোর ১.৩ গিগাহার্জ প্রসেসর থাকায় খুব ফাস্ট কাজ করে
জিপিউ হিসেবে দেওয়া হয়েছে মালি৪০০ (Mali 400MP) । সব মিলিয়ে ডিভাইসটি থেকে বেশ ভাল পারফরম্যান্স পাওয়া যাবে।



র্যাম ও রম (Ram & Rom) : ডিভাইস্টিতে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৫১২ মেগাবাইট র্যাম যার থেকে মাত্র ৪৬৮ মেগাবাইট ইউস করা যায়। ডিভাইস্টিতে রম হিসেবে দেওয়া হয়েছে ৪ গিগাবাইট যার ২.২৭ গিগাবাইট ইউস করা যাবে। আবার এই ২.২৭ গিগাবাইট থেকে আপ্লিকেশন ইন্সটলের জন্ন ১.২৭ গিগাবাইট এবং বাকিটা ডাটা স্টোরেজের জন্য।

ডিসপ্লে ও টাচ রেসপন্স : ডিভাইসটিতে TFT Capacitive touchscreen ইউস করা হয়েছে। ডিভাইসটির টাচ রেসপন্স খুব ভাল। ডিভাইস্টিতে ৪ ইঞ্চি ডিসপ্লে ইউস করায় ১ হাতে ডিভাইস্টি ধরতে কুনো প্রকার সমস্যা হইনা।
ইউজার ইন্টারফেস : ডিভাইসটির ইউজার ইন্টারফেস অনেকটা স্টক নেক্সাস ডিভাইস গুলার মত।

এছাড়া এর নটিফিকেশন বারটি পুরোপুরি Cyanogenmod 10.1 এর মত যা আমাকে বেশ অবাক করেছে।

ক্যামেরা : Symhony W68 ফোনটির আরেকটি অন্যতম আকর্ষণ হলো এর ক্যামেরা। W68 এ দেওয়া হয়েছে ৫ মেগাপিক্সেল এবং ০.৩ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা কিন্তু বেঞ্চমার্ক টেস্ট অনুযায়ী ডিভাইস্টিতে রয়ে ছে ৮ মেগাপিক্সেল এবং ফ্রন্ট ক্যামেরা ১.২ মেগাপিক্সেল।


অডিও ও ভিডিও : অডিও তথা সাউন্ড কোয়ালিটির ক্ষেত্রেও ডিভাইসটি যে কারও মন জয় করতে সক্ষম বলে আমি মনে করি।


ডিভাইসটির ডিফল্ট ভিডিও প্লেয়ারটি এক কথায় চমৎকার। কারণ ডিভাইসটির ডিফল্ট ভিডিও প্লেয়ার দিয়ে ঈ আপনি যে কুন ফরমেটের ভিডিও দেখতে পারবেন।যেমন mkv,flv etc.


ডিভাইস্টিতে ফুল এইচডিভিডিও রেকর্ডিং করা যাবে এবং সহজেই ১০৮০পি এর ভিডিও প্লেব্যাক করা সম্ভব।
বেঞ্চমার্ক : একটি ডিভাইসের ক্ষমতা ঠিক কতটুকু সেটি পরিমাপ করতেই মূলত বেঞ্চমার্ক করা হয়ে থাকে। আর বেঞ্চমার্ক অ্যাপ্লিকেশনগুলোর মাঝে বর্তমানে Antutu Benchmark অ্যাপ্লিকেশনটিই সবচেয়ে জনপ্রিয়। তাই Symphony W68 ডিভাইসটি বেঞ্চমার্ক করার জন্য আমি Antutu Benchmark ব্যবহার করেছি।

দেখতে ঈ পারছেন স্কে।র ৮৪৫৭ যা এইচডি গেমিংের জন্য পারফেক্ট। স্কোর অনুযায়ী ডডিভাইসটিকে middleend ডিভাইস বলা যায়।
গেমিং – গেমারদের জন্য এটি পারফেক্ট একটি ডিভাইস। ডিভাইস্টিতে প্রাই সবধরনের এইচডি এবং থ্রিডি গেইমস কোন প্রকার সমস্যা ছারাই খেলতে পারবেন। ডিভাইসটির ডয়াল কোর ১.৩ গিগাহার্জ প্রসেসরের জন্য কোন প্রকার লেগ ছাড়াই হাই কনফিগারেশনের গেইমস খেলা যাই।তাছাড়া উচ্চ গ্রাফিক্সের জ়ন্য ডিভাইস্টিতে দেওয়া হয়েছে মালি৪০০ জিপিউ এমপি (mali400 mp) । তাছাড়া ডিভাইস্টিতে ওস ৪.২.২ হওয়ায় এক্সট্রা পারফরমেন্স পাওয়া যাবে ।



 যে যে গেইমস আমি W68 এ খেলেছি তার কিছুর নাম -
GTA Vice City
GTA III
Fifa 2014
Gangstar Vegus
Gangstar Rio City Of Saints
Real Racing 3
NFS MW
Asphalt 8
Batman The Dirk Night Rises
Amaging Spiderman
Modern Combat 4
Modern Combat 3
All Version Of Temple Run & SubwaySurfer and manymore…..
এই গেইমস গুলো আমি ফুল এফপিএস এ খেলেছি কোন প্রকার লেগ ছারাই।
স্ক্রিন্সশটস –
NFS MW -

Batman -


Gta Vice City -


Gangstar Rio –

কানেক্টিভিটি, সেন্সর ও অন্যান্য : একটি সিম ব্যবহারের সুবিধাসম্পন্ন Symphony W68 – এ প্রায় সকল কানেকটিভিটি সুবিধাই দেয়া হয়েছে। ব্লুটুথ ভার্সন, ওয়াইফাই,জিপিএসসহ প্রায় সবই রয়েছে এই ডিভাইসে।এছাড়া ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য এতে ওয়াইফাই, জিপিআরএস/এজ এর পাশাপাশি ৩জি প্রযুক্তি দেয়া আছে। ৩জি ব্যবহার করে ন্যাটিভ ভিডিও কলিং এর সুবিধাও। অর্থাৎ ভিডিও কলিং এর জন্য আপনাকে আলাদা কোন অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করতে হবে না, ৩জি ব্যবহার করে আপনি সরাসরিই ভিডিও কল করতে পারবেন।
এবার আসা যাক সেন্সর এর দিকে। এই ডিভাইস্টিতে মাত্র ২ টি সেন্সর আছে। Accelerometer, G-sensors.বিভিন্ন ওয়েবসাইটে Proxymiti সেন্সর থাকার কথা বলা হলেও আসলে তা নেই।ডিভাইস্টিতে রেসিং গেইমস খেলতে কোন প্রকার প্রবলেম হবেনা।
ব্যাটারি ব্যাকআপ : Sumphony W68-তে দেয়া হয়েছে ১৫০০ mAh এর লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি। ৪ইঞ্চি প্রসস্ত ডিসপ্লের জন্য এই ব্যাটারিকে ভালই বলা চলে। টানা ডিসপ্লে অন করে কাজ করলে এতে আপনি 5 ঘন্টার মত ব্যাকআপ পাবেন, আর হাই গ্রাফিক্সের গেম খেলার ক্ষেত্রে পাবেন প্রায় ২-৩ ঘন্টা ব্যাকআপ। তবে সাধারণভাবে ব্যবহার করলে দিনে ১ বার চার্জ করাই যথেষ্ট। এদিক থেকে বিবেচনা করলে ব্যাটারি ব্যাকআপ কে ভাল বলা যায়না। Symhonyr অন্যান্য ডিভাইস গুলার মত এই ডিভাইসটি ও অনেক্ষন গেইমস খেল্লে হাল্কা গরম হয়।



দাম ও সিদ্ধান্ত :
Symohony W68 এর দাম মাত্র ৬৪৯০ টাকা। ডিভাইসটি সম্পর্কে যেকোন জিজ্ঞাসা, পরামর্শ বা মতামত জানাতে চাইলে মন্তব্যের ঘরে তা নির্দ্বিধায় জানাতে পারেন।
THANKS TO FAISAL KARIM(RSS)
FOR MORE VISIT:www.androidgamezzone.olkt.com